1. mahbubur2527@gmail.com : Mahbubur Rahman Sohel : Mahbubur Rahman Sohel
  2. saidur.yc@gmail.com : SAIDUR RAHMAN : SAIDUR RAHMAN
  3. jannatulakhi1123@gmail.com : Jannatul akhi Akhi : Jannatul akhi Akhi
  4. msibd24@gmail.com : Fazlul Karim : Fazlul Karim
  5. Mofazzalhossain8@gmail.com : Mofazzal Hossain : Mofazzal Hossain
  6. saidur.yc@hotmail.com : Saidur Rahman : SAIDUR RAHMAN
  7. jim42087070@gmail.com : Lokman Hossain : Lokman Hossain
  8. galib.ip2@gmail.com : Al Galib : Al Galib
  9. sikhanphd3@gmail.com : Shafiqul Islam : Shafiqul Islam
আজ ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ সময় সন্ধ্যা ৬:৫১
শিরোনাম
নরসিংদীতে গেমিং ল্যাপটপের জন্য অপহরণ করে শিশু ইয়ামিনকে হত্যা,আটক ৪ নারায়ণপুর ইউনিয়ন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মোশাররফ হোসেন পুলিশের অভিযানে ময়মনসিংহে গ্রেফতার ১৭ মাধবপুরে ৫ম ধাপে ইউপি নির্বাচন নতুন প্রার্থীদের ঘিরে এখন আগ্রহ ভোটারদের নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পরিত্যক্ত ডোবায় শিশুর লাশ কুড়িগ্রামে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস পালন বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে এইচ এস সি পরিক্ষা দিলেন মেরাজ হক মাধবপুরে যুবলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে ৫কোটি টাকার পুকুর দখলের চেষ্টার অভিযোগ। বাঘাব ইউনিয়ন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি আশরাফুজ্জামান ভূইয়া রিপন বীরপ্রতীক তারামন বিবির তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে নেই সরকারী কোন কর্মসূচি

সুন্দরবনের মধুই সেরা!

আবু-হানিফ, বাগেরহাট অফিসঃ
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২১,
  • 580 দেখুন

মধু! নাম শোনা মাত্র একবার হলেও এর স্বাদ গ্রহনের ইচ্ছে জাগে সবার। আর সুন্দরবনের মধু হলে তো কথাই নেই। দেশ জোড়াখ্যাতি ও চাহিদা রয়েছে এই মধুর।শুধু মিষ্ট স্বাদই নয়, বহু ঔষধি গুণও রয়েছে প্রাকৃতিক এই উপাদানটিতে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষের মাধ্যমে আবার প্রাকৃতিকভাবেও বহু প্রজাতির মধু সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু গুণে-মানে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের মধুই সেরা।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমান মধু আহরিত হয়। এবছর ৭১২কুইন্টাল মধু এবং ২১৪ কুইন্টাল মোম আহরিত হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় মধু বৃদ্ধি পেয়েছে ৩২শতাংশ। বনবিভাগ মধু ও মোম থেকে রাজস্ব আয় করেছে প্রায় ৯ লাখ টাকা। শরণখোলা উপজেলার প্রায় পাঁচ মৌয়াল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গহীনবন থেকে এই মধু আহরণ করেছে। এই মধু শিল্পের সঙ্গে মৌয়াল, তাদের পরিবার ও ব্যবসায়ী মিলিয়ে শরণখোলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুন্দরবনে পাঁচ প্রজাতির মধু পাওয়া যায়। এসব মধুর সঙ্গে ভেজাল মধুও তৈরী করছে অনেকে। মধু আহরণে সঠিক প্রশিক্ষণনা থাকায় ব্যবহার হচ্ছে সনাতন পদ্ধতি। এতে ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছে মৌমাছিরা। অপরদিকে, মধু আহরণ করতে গিয়ে বনের মধ্যে খাবার পানির সংকট এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে মৌয়ালদের। তাছাড়া, মধু আহরণ, সংগ্রহ, পরিবহন, বিপননেও রয়েছে নানান জটিলতা। বনবিভাগ, মৌয়াল ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে মধুর আদ্যপান্ত।

মধু মাসের শুরুঃ
এপ্রিল মাস থেকেই শুরু হয় মধু আহরণের মৌসুম। চলে জুন পর্যন্ত। সুন্দরবনের সবচেয়ে সুস্বাদু ও দামি খলিসা ও গরাণ ফুলের মধু আসে প্রথম মাসে। এর পর পরই আসে কেঁওড়া ও গেওয়ার মধু। আবার ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে পাওয়া যায় জার্মানিলতা (স্থানীয় ভাষায় যশোরিলতা) ফুলের মধু। মধু আহরণের জন্য বনবিভাগের নির্ধারিত রাজস্বের মাধ্যমে ১৫ দিনের পাস দেওয়া হয়। পাস নিয়ে শরণখোলা রেঞ্জের নির্ধারিত দুবলা, নীলকমল, ভেদাখালী, আমবাড়িয়া, কালামিয়া, আগুন জ্বলা খাল ও খাজুরা এলাকার বনে যায় মৌয়ালরা।

আহরণের পদ্ধতিঃ
প্রায় ৩০ বছর ধরে সুন্দরবনে মধু আহরণ করেন উপজেলার দক্ষিণ চালিতা বুনিয়া গ্রামের আনোয়ার আকন (৫০)। এবছর তারা এক নৌকায় আটজন দুবলার বনে গিয়েছিলেন মধু আহরণ করতে। তিন মাসে একেক জনে ভাগে সাড়ে তিন মন করে মধু পেয়েছেন। তিনি জানান,তারা মশাল পুড়িয়ে ধোঁয়া তৈরী করে মৌমাছি তাড়িয়ে চাক থেকে মধু আহরণ করেন। চাকের কিছু অংশ অবশিষ্ট রেখে বাকিটা কেটে আনা হয়। যাতে পরবর্তীতে মৌমাছি নতুন করে চাক তৈরী করতে পারে। এভাবে কাটার ফলে একেকটি চাক থেকে তিন বার মধু সংগ্রহ করা যায়।

সমস্যাঃ
মধু আহরণে তাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই জানান আহরণকারীরা। এজন্য অনেক মৌয়ালকে এখনও চাকে আগুন জ্বালিয়ে মধু ভাঙতে দেখা গেছে। এতে মৌমাছি পুড়ে মারা যায়।অনেকে পুরো চাক কাটার ফলে নতুন করে সেখানে আর মৌচাক তৈরী হয়না। তাছাড়া, মধু আহরণ করতে গিয়ে গহীনবনে মৌয়ালদের সুপেয় পানিসংকট ও সাপ বা বন্য প্রাণির আক্রমণে আহত হলে চিকিৎসা সমস্যায় পড়তে হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বনের বাঘ, হরিণকে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়, একই ভাবে রাজস্ব আয়ের অন্যতম খাত মৌমাছি সংরক্ষণেও উদ্যোগ নিতে হবে। প্রশিক্ষিত করতে হবে মৌয়ালদের। সুন্দরবনে মধু আহরণের এলাকা বৃদ্ধি করতে হবে। বনবিভাগকে মৌয়ালদের দ্রুত এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় যাওয়ার ব্যবস্থা, মধু পরিবহন ও বিপননে সহায়তা করেত হবে। এতে সুন্দরবন থেকে আহরিত মধু ও মোমে দেশের চাহিদা অনেকটা পুরোণ করা সম্ভব হবে।

ভেজাল মধু তৈরী ও চেনার উপায়ঃ
উচ্চতা পেচিনি জ্বালিয়ে প্রথমে গাড়োরস তৈরী করা হয়। এরপরে ২০ কেজি মধুর সঙ্গে ২০ কেজি চিনিররস মেশানো হয়। আবার ফিটকিরির পানি এবং চিনি জ্বালিয়ে তার সঙ্গে মধুর ফ্লেভার দিয়ে ভেজাল মধু তৈরী করাহয়। ভেজাল মধু চেনার উপায় হলো, ফ্রিজে কিছু দিন রাখার পরই তা জমে যায়। এই মধু বেশি দিন রাখলে তলানি জমে এবং দুর্গন্ধ তৈরী হয়। তাই ভেজাল কারীরা তা দ্রুত কম দামে বিক্রি করে দেয়। অনেকে আসল-নকল না বুঝেই বেশি দামে কিনে প্রতারিত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের মতামতঃ
প্রায় একযুগ ধরে মধুর সঙ্গে সম্পর্ক শরণখোলার বন সংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রামের রাসেল আহমেদের। সুন্দরবনের পাশাপশি বিভিন্ন এলাকা থেকে চাষের মধুও সংগ্রহ করেন তিনি। দুই ধরণের মধুর পার্থক্য খুঁজতে গিয়ে স্বাদ-গন্ধ ও গুণে-মানে সুন্দরবনের মধু সেরা বলে বিবেচিত হয়েছে তার এবং তার গ্রাহকদের কাছে। রাসেল জানান, মৌসুমের শুরুর দিকে ২০-২২ হাজার টাকায় মন থাকে। বর্তমানে মধুর চাহিদা ব্যাপক। তাই এখন প্রতি মন মধু ৩০-৩৫হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। অনলাইনে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ারের মাধ্যমে মধু পৌঁছে দেওয়া হয় খুচরা গ্রাহকের কাছে। তাছাড়া, সিলেটের প্রকৃতি অনলাইন সপ, ঢাকার মৃন্ময় অ্যাগ্রো এবং চট্টগ্রামের গ্রীণ বেল্টে নিয়মিত মধু পাইকারী সরবরাহ করেন। প্রতিবছর মধু থেকে তার আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ টাকা লাভ থাকে।

সম্ভাবনাঃ
রাসেল আরো জানান, সুন্দরবনের মধুর চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। তাই অনেক সময় মধু বিক্রি করতে গিয়ে এর মান নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়। সরকার বা বনবিভাগ বন সংলগ্ন এলাকায় মান নির্ণয়ের জন্য ল্যাব স্থাপন, সহজ ভাবে বিএসটিআইর অনমোদন পাওয়া, ব্যবসায়ী ও মৌয়ালদের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করলে সুন্দরবনের মধু ব্র্যান্ড হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি ঘটানো সম্ভব।

ইউকিপিডিয়ার তথ্যমতেঃ
বাংলাদেশের সুন্দরবনের মধু স্বাদ, রঙ ও বিশেষ সুগন্ধের জন্য প্রসিদ্ধ। এটি উচ্চ ঔষধি গুণ সম্পন্ন একটি ভেষজ তরল এবং সুপেয়। এর বিশেষ গন্ধের জন্য অনেকে চিনির চাইতে মধুকেই বেশি পছন্দ করে। মধুতে ৪৫টিরও বেশি খাদ্যগুণ রয়েছে। যার সবগুলোই মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। খাটি মধুর অনন্যগুণ হলো এটি কখনো নষ্ট হয়না।

বনবিভাগের ভাষ্যঃ
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারীবন-সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, সুন্দরবনের মধু আহরণকারীদের নিরাপত্তায় বনবিভাগ সব সময় সহযোগীতা করে থাকে। মধু আহরণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যহতার এবং তাদেরকে প্রশিক্ষিত করার জন্য সামনে সুন্দরবন সুরক্ষায় যে সব প্রকল্প আসছে এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।

এসিএফ জানান, গতবছরের চেয়ে এবছর প্রায় ৩২ শতাংশ মধু বেশি আহরিত হয়েছে। রাজস্বও বৃদ্ধি পেয়েছে। শরণখোলা স্টেশন থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মৌয়ালকে মধু সংগ্রহের পাস দেওয়া হয়েছিল।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

https://shadhinbangla16.com © All rights reserved © 2020

theme develop by shadhinbangla16.com
themesbazarshadinb16
bn Bengali
X